হাওজা নিউজ এজেন্সি, আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমুলি তাঁর ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন যে, জ্ঞানচর্চার গভীরতা ও ফলপ্রসূ রচনাই হাওজার অগ্রগতির প্রকৃত পরিচায়ক। তিনি আলেম, গবেষক ও লেখকদের সেবার প্রশংসা করে জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞানের প্রসার ও তার সঠিক অনুধাবনের জন্য দৃঢ় যুক্তিবিদ্যা ও মৌলিক নীতিগত ভিত্তি অপরিহার্য।
তিনি তাঁর বার্তায় বলেন, মহান আল্লাহ শুধু জ্ঞানকেই গুরুত্ব দেননি; বরং কলম, কালি ও লেখনীর শপথের মাধ্যমে জ্ঞানের মর্যাদাকে আরও উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর মতে, এটি প্রমাণ করে যে ইসলামী সমাজে গবেষণা, রচনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা মৌলিক গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, হাওজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গভীর ও প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে জ্ঞানব্যবস্থা সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো জ্ঞানব্যবস্থার দৃঢ়তার জন্য যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) একটি মৌলিক স্তম্ভ। যুক্তিবিদ্যাই সেই মানদণ্ড, যার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যা, ভ্রান্তি ও প্রমাণভিত্তিক যুক্তির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি হাওজা শক্তিশালী ও গভীর যুক্তিবিদ্যায় সজ্জিত হয়, তবে তা নতুন প্রশ্ন উত্থাপন, সেগুলোর বিশ্লেষণ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, হাওজায় শক্তিশালী ও উচ্চমানের যুক্তিবিদ্যাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি ফিকহ ও উসুলের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আলোকপাত করেন এবং বলেন, ফিকহে পৌঁছানোর দ্বার হলো উসুল, আর উসুলের ভিত্তি হলো যুক্তিবিদ্যা। যদি এই ভিত্তি দুর্বল হয়, তবে ইস্তিনবাতে (বিধান নির্ণয়ে) বিচ্যুতি ঘটতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলেমদের নির্ণয় করতে হবে কোন বিধান স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় এবং কোনগুলো সময় ও স্থানের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে যুক্তিবিদ্যায় আলোচিত প্রস্তাবনার প্রকারভেদ—তাবিয়িয়া (প্রাকৃতিক), খারিজিয়া (বহিঃস্থিত) ও হাকিকিয়া (বাস্তব)—সঠিকভাবে বোঝা জরুরি, যাতে কুরআন ও হাদিস থেকে প্রাপ্ত বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি ধর্মসমূহের ঐতিহাসিক বিকাশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কিছু মৌলিক সত্য সর্বদা স্থির থাকে, আবার কিছু বিষয় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। এই পার্থক্য অনুধাবন না করলে সঠিক ইজতিহাদ সম্ভব নয় এবং সমসাময়িক সমস্যার সমাধানও পাওয়া যাবে না।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি “ইমামত ও উম্মাহর ব্যবস্থা”-র গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এর মৌলিক দায়িত্ব শুধু শিক্ষা প্রদান বা অজ্ঞতা দূর করা নয়; বরং “জাহিলিয়াতের অবসান” ঘটানো।
তিনি পশ্চিমা বিশ্বে চলমান অত্যাচার, বিশেষত গাজ্জার পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু সংকট কেবল একাডেমিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য নয়; বরং তা চিন্তাগত ও সাংস্কৃতিক সংস্কার দাবি করে।
শেষে তিনি ইসলামী ব্যবস্থার স্থায়িত্ব, আলেম ও গবেষকদের সাফল্য এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করেন। লেখক ও গবেষকদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমেই সমাজ প্রকৃত অগ্রগতি অর্জন করতে পারে।
হাওজা / আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমুলি হাওজা ইলমিয়ার ২৭তম বার্ষিক “বর্ষসেরা গ্রন্থ” সম্মেলন উপলক্ষে তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেছেন যে, জ্ঞানচর্চার গভীরতা ও বরকতময় রচনাসমূহ হাওজার সাফল্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।
আপনার কমেন্ট